যেন কোন এক অরাজকতার দৌরাত্ম্যে গণমাধ্যম

Friday, 28/07/2017 @ 11:32 pm

:: আকাশ মো. জসিম ::

এক অরাজককতা ভর করছে আমাদের প্রিয় গণমাধ্যমগুলোর ওপর। জাতীয় পর্যায় হতে শুরু করে একেবারে মফস্বলেও। জাতীয় পর্যায়ের হেয়ালিপনায় মফস্বলে এর দখল দৌরাত্ম্য আরো বেপরোয়া, নির্লজ্জ ও বেহায়াজনক।

হালে এ পেশায় যেন সাংবাদিকতার বয়ান ও চয়নে নেই কোন নিয়মনীতি, সুষ্ঠ-সাবলীল রীতি-নীতি। এখানে যিনি যাহা নন, তিনি তা সেজে বসতে চলছেন। বসেছেন। পর্যবেক্ষণে দেখেছি, বড়-সড় কোন-কোন চ্যানেল ও খবরের কাগজের কার্ড কিংবা পরিচয়পত্র ভাগিয়ে আনতে কোন শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-গর্ব, অভিজ্ঞতার দরকার হয়না।

সাম্প্রতিকালের এসব আগন্তুক সাংবাদিকের নমুনা কিংবা হাল-হকিকত দেখে বয়োজ্যেষ্ঠদের অনেকেই লজ্জিত ও মর্মাহত। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকের দরবারে কোন ক্ষমতাসীন নেতা-কর্মী, উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা কিংবা দেশ-গ্রামের ধনার্ঢ্যর একটু চেষ্টা তদবির ভাগিয়ে নিতে পারলেই সহজ হয়।

উপরোক্ত দলবাজির দৌরাত্ম্যে জীবনে দু’লাইনও লিখেননি এমনদের অনেকেও খোদ সম্পাদক সেজে গেছেন। শুনেছি, সম্পাদক হওয়ার অভিপ্রায়ে আবেদিত সেসব নিলজ্জ ও সুবিধাবাদীরা ক্ষমতাসীন দলের অমুক-তমুক,এটা-সেটা বিকিয়েই বনে যাচ্ছেন সম্পাদক-সাংবাদিক। এক্ষেত্রে আমাদের প্রশাসনও ক্ষমতাসীনদের কোন ¯^জন শুনলেই নাকি আবেদনকারীর খোঁজখবরও নিতে চাননা। নেননি। শুনেছি, ঢাকায় কিছুকিছু গণমাধ্যমের বড় কোন কর্মকর্তা ঘুষ-বাণিজ্যে খুশি হলেও নিয়োগ নামের পদ পরিচয় ভাগিয়ে নিতেও সহজ হয়। ফলে, নানাসব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কবলে পথ হারাতে বসছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ নামের প্রিয় গণমাধ্যমের সম্ভাবনাময়ী মর্যাদা।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলি, নোয়াখালীতে একসময় (মরহুম) কামাল উদ্দিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে শিক্ষা সর্বোচ্চ সনদ নিয়ে জেলায় সাংবাদিকতায় শুরু করেন। সম-সাময়িককালে মরহুম ছাইদুল হক চৌধুরী, মরহুম এডভোকেট শহিদুল্যাহ, মরহুম সহিদ উদ্দিন এস্কান্দার কচিও। হালে যতসব ঠোঙ্গাকারবারীরাও এ পেশায় ভর করছেন। আছেন রাজনৈতিক মহাজনরাও।

কেননা এ জেলায় সংবাদদাতা তো বটেই খোদ সম্পাদক হতেও যেন শিক্ষা-দীক্ষার বালাই নেই। সাংবাদিকতার এ দৌরাত্ম্যে টিভির ক্যামেরাম্যানরা হয়ে গেছেন কোন চ্যানেল কিংবা সংবাদপত্রের দাপুটে সাংবাদিক। তাদের দৌরাত্ম্য প্রশাসন হতে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় সর্বত্রই। যেন ডিসি-এসপির চেয়েও তারা ক্ষমতাবান ও বিরাট কিছু। অথচ, এসবজনদের মধ্যে এমনও রয়েছেন যারা নাম লিখতে কলমভাঙ্গে।

সম্প্রতি, এ জেলায় সরকারের শীর্ষ কর্তার ব্যক্তিগত এক কর্মচারীর (!) দৌরাত্ম্যেও এ জেলায় কতেক ব্যক্তি মাধ্যমিক শ্রেণীর গন্ডি না পেরিয়েও তারাও (ভাগ্যিস!) কোন বড়-সড় চ্যানেল ও খবরের কাগজের সাংবাদিক বনে গেছেন।

অভিযোগ ওঠেছে, এসবদের অনেকে জেলার বিভিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত পল্লীতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ধমকিয়ে বলছে, আমি ওমুকের তমুক। তাদেরই একটি সংঘবদ্ধ দল মাইক্রো হাঁকিয়ে চ্যানেল নামের বিশাল ষ্টিকার লাগিয়ে ছুটে যান পল্লীর আনাছে কানাছে। এ শ্রেণীর দুবৃর্ত্তরা একপর্যায়ে, সাধারণ ও সহজ প্রকৃতির নিরীহ মানুষদের বিপাকে ফেলে ভাগিয়ে নিচ্ছেন নিজের আখের।

(পাদটিকা: একজন আইনজীবি ব্যথিত চিত্তে জানালেন, ভাই সাংবাদিক হওয়ার শখ ছিল কিন্ত, এখন যা দেখি। তা দেখে আর স্বাদ হয়না। বলেছেন, জেলা শহরে একজন এমপি আসা মাত্রই যেন গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ঠ হতে হন্য হয়ে দিকিবিদিক ছোটাছুটি করেন কোন কোন সাংবাদিক!

তিনি বলেন, এ সময় আগন্তকদের মধ্যে ভিক্ষকও থাকে অসংখ্য। সবাইর দৃষ্টি নেতার দিকে। নেতা নোট দেবেন। নেতাও অবস্থার শিকার হয়ে একসময় ব্যক্তিগত সহচরকে বলে দেন, এদের বিদায় করো। পরক্ষণে সাংবাদিক ও্ সহচরের দিকে। আর ইত্যবসরে নেতা মুক্ত বাতাসের নি:শ্বাসে প্রাণে উল্লাসিত হয়ে ওঠেন।)

লেখক : সম্পাদক, দৈনিক দিশারী।।