ভোটের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে প্রেস ক্লাব

Wednesday, 22/03/2017 @ 7:26 pm

:: তুহিন আহামেদ, আশুলিয়া (ঢাকা) ::

২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাভারের আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের ৫ম দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। এ উপলক্ষে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে প্রেস ক্লাব আঙ্গিনা। সংগঠনের অর্ধশত সংবাদকর্মী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার করছেন ব্যস্ত সময়।

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারী সংগঠনটির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসের বেগকে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান করে ৩ জন জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিকের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর ইতিমধ্যেই তফসিল ঘোষণা, মনোনয়ণপত্র সংগ্রহ, মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রত্যাহারসহ সকল কর্মকান্ড সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছে।

প্রেস ক্লাবটির মোট সদস্য সংখ্য ৬১ জন হলেও সাধারন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরাসরি ভোট দিতে পারবেন ৫১ জন সদস্য। ১৩ টি পদের বিপরীতে ৩০ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। তবে এদের মধ্যে ৩০ জন প্রার্থী মনোনয়ণপত্র জমা দিলেও নির্বাচিত হবেন ১৩ জন প্রার্থী। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদেও এক প্রার্থী তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. শাহিনুর রহমান শাহিন। এজন্য বর্তমানে প্রার্থী সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৯ জন।

নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে আশুলিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে চলছে ৫ দিন ব্যাপী নির্বাচনী উৎসব, যেখানে আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাউল, জারি-সারি, মুর্শিদী গান ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা আয়োজন। ২৭ শে মার্চ বর্নাঢ্য ও জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে দেশের বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পীদের স্গংীত পরিবেশেনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্ত হবে আশুলিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচনী উৎসব। এরপরের দিন ভোটগ্রহণের মাধ্যমে প্রেস ক্লাবটির খুঁজে নিবে নতুন নেতৃত্ব।

এ নির্বাচনে একজন সভাপতি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪ জন ও দুই জন সহ-সভাপতি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৫ জন প্রার্থী। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন মো. শহীদুল্লাহ মুন্সী (দৈনিক খবরপত্র), মো. মোজাফ্ফর হোসেন জয় (সময় টেলিভিশন), মো. শাহ-আলম (মাই টিভি) এবং শেফালী খাতুন (বাংলাভিশন টিভি)।

সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. বাবুল আহমেদ (দৈনিক ভোরের অপেক্ষা), মো. মেহেদী হাসান মিঠু (যুগান্তর), হাজী মো. গোলাম মঞ্জুর মোর্শেদ (দৈনিক করতোয়া), ওমর ফারুক (সাপ্তাহিক আলোকিত কন্ঠ) এবং শহীদুল ইসলাম ডাবলু (সাপ্তাহিক অপরাধ বিচত্রা)।

অন্যদিকে, একজন সাধারন সম্পাদক পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪ জন প্রতিদ্বন্দি ও একজন যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক পদের বিপরীতে লড়ছেন ২ জন।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন মো. মাহ্ফুজুর রহমান নিপু (যমুনা টিভি), মো. লাইজু আহাম্মেদ চৌধুরী (মোহনা টিভি), মো. মনিরুজ্জামান (দৈনিক আজকালের খবর) এবং মো. নজরুল ইসলাম মানিক (দৈনিক দিনকাল)।

এছাড়া, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন মো. ওবায়দুর রহমান লিটন (দৈনিক মুক্ত খবর) এবং মো. মাহবুব মন্ডল (সাপ্তাহিক শীর্ষ খবর)।

অপরদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন ২জন প্রার্থী। এর মধ্যে খোকা মোহাম্মদ চৌধূরী (বণিক বার্তা) এবং আমিনুল ইসলাম (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি)।

কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন মো. জিল্লুর রহমান ( দৈনিক সকালের খবর) এবং মো. জিয়াউর রহমান জিয়া (দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ)।

দপ্তর সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন মো. মনির মন্ডল ( মিলেনিয়াম টিভি) এবং আমিরুজ্জামান টুটুল (দৈনিক সময়ের সংবাদ)।

এদিকে, প্রচার ও প্রকাশণা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন লিটন সরকার বিনয় (দৈনিক ভোরের সময়) এবং সাঈম সরকার (দৈনিক স্বাধীন সংবাদ)।

অন্যদিকে, কার্য্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তুহিন আহামেদ (দৈনিক ডেসটিনি), আবুল হায়াত বাচ্চু (দৈনিক পাঞ্জেরী), একেএম কামরুজ্জামান (দৈনিক আজকের প্রভাত), ইফতেখার জাহাঙ্গীর (দৈনিক আমার সংবাদ) এবং জাহাঙ্গীর আলম রাজু (ক্রাইমওয়াচ রিপোর্ট)।

নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু নাসের বেগ, নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন অপু ওহাব (চ্যানেল২৪), মো. জাকির হাসান (চ্যানেল আই) এবং এএইচ মিলন (দৈনিক নয়াদিগন্ত)।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নেতারা জানান, সৌহার্দ ও সম্প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে নির্বাচনী বিধি নিষেধ মেনেই নির্বাচন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে এরই মধ্যে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে একজন সভাপতি ও একজন সহ-সভাপতি প্রার্থীকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার এএইচ মিলন জানান, অবাদ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর এবং অনঢ়। আসন্ন ২৮ মার্চ আশুলিয়া প্রেস ক্লাব নির্বাচনকে সফল করতে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের আচরণ বিধি সর্বাগ্রে পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কমিশন এক হাজার টাকা থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখেছেন। সেই সাথে প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করতে পারবেন। এরই মধ্যে দেয়ালে পোষ্টার লাগানো এবং রঙ্গিন পোষ্টার অনলাইনে পোস্ট করার দায়ে এক সভাপতি প্রার্থীকে দুই হাজার টাকা এবং এক সহ-সভাপতি প্রার্থীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলার এবং আইন মেনে চলার সকল প্রার্থীদের প্রতি আহব্বান জানান তিনি।