বঙ্গবন্ধু, সাংবাদিকতা এবং প্রেস কাউন্সিল

Tuesday, 14/02/2017 @ 11:24 pm

:: শামীমা চৌধুরী ::

১৯৮৯-২০১৭ দীর্ঘ ছত্রিশবছর ধরে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দেশের সংবাদপত্র শিল্পকে গতিশীল,জনবান্ধব,স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্য দিকে এই প্রতিষ্ঠান বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রবাহকে নিশ্চিত করছে একদিকে। সেই সাথে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

১৮৪৭ খ্রীস্টাদ্বে জমিদার কালীচরণ রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্রিটিশ সরকার নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশের রংপুর থেকে ‘রঙ্গপুর বার্তাবহ’ পত্রিকার প্রকাশের মধ্য দিয়ে এ দেশে সংবাদপত্র প্রকাশের যাত্রা শুরু। এর তিন পর এই জেলা থেকেই প্রকাশিত ‘দিন প্রকাশ’ এবং কুষ্টিয়া থেকে কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত ‘গ্রামবাংলা প্রকাশিকা’ সাংবাদপত্র শিল্পকে পাঠকের দ্বোর গোড়ায় নিয়ে আসে। যা আজও স্বমহিমা, স্বমর্যাদা, স¦র্কীয়তা, স্বাধীনতা আর জবাব দিহিতা নিয়ে টিকে আছে।

সংবাদপত্র পরিচালিত হয় সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রবর্তিত আচরণবিধি,হাউজের নিজস্ব নীতিমালা এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠান প্রবর্তিত নীতিমালা ভিত্তিতে পরিচালিত হয় সংবাদপত্র।

প্রথমদিন থেকে সংবাদপত্রের ওপর মানুষের তথ্য প্রাপ্তির যে নির্ভরতা তা আজও পরিবর্তন হয়নি। এখন গণমাধ্যম অনেক বিস্তৃত। সংবাদপত্র ছাড়াও বিভিন্ন বার্তা সংস্থা,বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, সরকারি বেসরকারি রেডিও,অনলাইন পত্রিকা, অনলাইন বার্তা সংস্থা,অনলাইন রেডিও, অনলাইন টেলিভিশন, কমিউনিটি রেডিও-সব মিলিয়ে গণমাধ্যমের জগৎ অনেক প্রসারিত। গণমাধ্যমের যতগুলো শাখা আছে এর মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতায়ন ও সুশাসন বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলেছে সংবাদপত্র।

গত শতাব্দীর ’৯০ দশক থেকে গণতন্ত্রের যে ঢেউ বিশ্বব্যাপী আছড়ে পরে তাতে অনিবার্যভাবে সংবাদপত্রের ভূমিকা হয়ে উঠে আরও বহুমুখী। তাই বলা হয় সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। প্রতিমূহুর্তে ঘটে যাওয়া তথ্য বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার ক্ষমতা রয়েছে সংবাদপত্রের। এই মাধ্যমটি সরকারকে জনগনের চাহিদা প্রত্যাশা,সাফল্য ও ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেয়, অন্যদিকে জাতীয় উন্নয়ন নিয়ে সরকারের নীতি, কার্যক্রম ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগনকে অবহিত করে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে প্রতিদিনের সংবাদপত্র দিনের প্রথম ভাগেই পৌঁছে যায় প্রত্যন্ত এলাকায়-পাঠকের হাতে। রাতে বিভিন্ন চ্যানেলের সুবাদে অনেক তথ্য জানা থাকলেও সংবাদপত্রের পাতায় তা দেখতে চায় পাঠক বিস্তারিত ভাবে। কারণ ঐতিহ্যগতভাবে এখনও সংবাদপত্রকেই তাঁর তথ্য প্রাপ্তির উৎস মনে করে। তাছাড়া এখানে আছে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ। এখন দেশের শুধুমাত্র বড় বড় শহর গুলোতে নয় জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আধুনিক গেটআপে মেক আপে সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে।
সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু:

১৯৭২ সালে স্বাধীনতা লাভের পর,পরই সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসন, আইন, বিচার ব্যবস্থা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সহ এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্টদের জীবনের মানোন্নয়নে প্রতি বিশেষভাবে নজর দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ১৯৭১ সালের অনেক আগেই স্বাধীন বাংলাকে সহ¯্রাব্দের উন্নয়নের শিখড়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন। তাই স্বাধীনতা লাভের পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সংবাদপত্র শিল্প এবং সাংবাদিকতা পেশাকে নিরপেক্ষ এবং জবাবদিহিতামূলক করার লক্ষ্যে তাঁরই নির্দেশে ও উদ্যোগে ১৯৭৪ সালে প্রেস কাউন্সিল এ্যাক্ট প্রণীত হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ২৫ আগষ্ট স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে তিনি স্বপরিবারে নিহত হন। তিনি তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখে যেতে পারেননি। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আজকের যে সাফল্য তা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নেরই বাস্তব রুপরেখা।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন এমন একজন মানুষ- যাঁর শারীরিক ও মানসিক গঠনে বাংলার সুবজ শ্যামল প্রকৃতি, খেটে খাওয়া মানুষ, দরিদ্র নিঃস্ব মানুষের প্রভাব ছিল প্রবল। প্রত্যন্ত জনপদে টুঙ্গিপাড়ার জন্ম নেয়া খোকা এদের প্রভাবেই হয়ে উঠেছিলেন বাংলার ও বিশ্বের অন্যতম অবিসংবদিক নেতা। তাঁর স্মৃতি শক্তি ছিলো প্রখর। তিনি তাঁর জন্মভূমির টুঙ্গিপাড়ায় মানুষদের, নেতাকর্মীদের চিনতেন। তাঁদের নাম- ভালোমন্দ সব বিষয়ই তাঁর স্মরণে থাকতো। রাজনীতির বাইরে কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, খেলোয়ার শিল্পী, আমলা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক সকলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো বন্ধুর মত। বিশেষ করে সাংবাদিকদের সাথে। টুঙ্গিপাড়ার খোকা একটি জাতির মুক্তিদাতা, ও স্বাধীনতা স্থপতি হয়ে উঠেছিলেন তাঁর পেছনে ছিল সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের অবদান। যা তিনি সব সময় উপলব্ধি করতেন। আর তিনি নিজেও কিছুদিন এ পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। তাই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের উন্নয়নে তিনি আমুত্যু কাজ করে গেছেন। এই পেশার দায়িত্ব কী, কী ভাবে এই পেশার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো যায়-এই বিষয়গুলো তিনি বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে- বক্তব্যে তুলে ধরেছিলেন। ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভায় বঙ্গবন্ধু প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন। এ দিন তিনি তাঁর ভাষণে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন-

‘মাননীয় সভাপতি, সুধীবৃন্দ ও সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা জানেন, আমি আপনাদের অনেক সহকর্মী শুধু সাংবাদিক ছিলেন না, তাঁরা আমার ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। আমি অনেকদিন তাঁদের সঙ্গে জেলখানায় কাটিয়েছি। এবারের সংগ্রামে তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা আজ আমাদের মধ্যে নাই। তেমনি নাই ৩০ লক্ষ লোক, যাঁরা আত্মাহুতি দিয়েছেন স্বাধীনতার জন্য। তাঁদের কথা চিরদিন আমাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে এবং যে আদর্শের জন্য তাঁরা জীবন দিয়েছেন, সে আদর্শে যদি বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, তাহলে তাঁদের আত্মা শান্তি পাবে।’

সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার কয়েকটা স্পষ্ট আরজ আছে। আপনারা জানেন, বিপ্লবের মাধ্যমে এই স্বাধীনতা এসেছে এবং সে বিপ্লব ছিল রক্তক্ষয়ী। এমন বিপ্লবের পরে কোন দেশ কোন যুগে এতটা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে নাই, যা আমরা করছি। আমরা ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। এজন্য আপনাদের কোন কাজ কখনো কোনরকম হস্তক্ষেপ করি নাই।

সাংবাদিকতার আদর্শ সম্পর্কে তিনি সেদিন বলেছিলেন
‘আপনারা খবরের কাগজের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি আদর্শের ভিত্তিতে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি এবং এইসব আদর্শের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, এটাও আপনারা নিশ্চয়ই বিশ্বাস করেন। আমরা এই চারটি আদর্শের ভিত্তিতেই দেশের শাসনতন্ত্র তৈরি করতে চাই। কিন্তু গণতন্ত্রেও একটা মূলনীতি আছে। গণতন্ত্রের অর্থ পরের ধন চুরি, খুন-জখম, লুটতরাজ বা পরের অধিকার হরণ করা হয়। তার জনকল্যাণমূলক একটা নীতিমালা আছে। সাংবাদিকতারও এমনই একটা মূলনীতি আছে।’

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন
আপনারা দাবি করেছিলেন, আপনাদের পূর্ণ স্বাধীনতায় যেন কোনদিন হস্তক্ষেপ না করি। কিন্তু আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। আপনাদের সাংবাদিক ইউনিয়নের যে আদর্শ আছে, সেগুলো মানলে কি মিথ্যা কথা লেখা যায়? রাতারাতি একটা কাগজ বের করে, বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে কেউ যদি বাংলার বুকে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে, তাহলে আপনারা নিশ্চয়ই সেটা সহ্য করবেন না। কারণ, তা আমাদের স্বাধীনতা নষ্ট করবে। ‘ওভারসিজ পাকিস্তান’ নামে কোন সংস্থা যদি এখন থেকে খবরের কাগজ প্রকাশ করে, তাহলে আমাকে কী করতে হবে? আপনারা সামান্য কিছু লোকের স্বার্থ, যে ৩০ লক্ষ লোক রক্ত দিয়েছে, তাঁদের স্বার্থ দেখবেন? বিপ্লবের পরে এ দেশের সংবাদপত্র যে স্বাধীনতা পেয়েছে, তা এদেশে আর কখনো ছিল না। এই জন্যই রাতারাতি খবরের কাগজ বের করেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ ছাপানো হয়, ‘এক লক্ষ বামপন্থী হত্যা’, ‘বিমানবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহ’ ইত্যাদি। কিন্তু এসব কি লেখা উচিত? এসব কার স্বার্থে ছাপানো হয়?

সংবাদপত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা তিনি বলেছিলেন
‘আপনারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেন। আমিও বলি। কিন্তু কোন কোন খবরের কাগজে এমন কথাও লেখা হয়, যা চরম সাম্প্রদায়িক। অথচ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে চব্বিশটি বছর প্রগতিশীল সাংবাদিকগণ সংগ্রাম করেছেন। আমরা সংগ্রাম করেছি, বাংলার মানুষ সংগ্রাম করেছে। আমাদের ছেলেরা, কর্মীরা জান দিয়েছে, জেল খেটেছে। সে নীতির বিরুদ্ধে যদি কোন সাংবাদিক লেখেন, তাহলে আপনারা কী করবেন? এটাও আপনাদের ভেবে দেখা প্রয়োজন। (সূত্র: নিরীক্ষা, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট,জুলাই আগষ্ট, ২০১৩, পৃষ্ঠা নং- ৭-৯, ১৮-১৯)
মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ইত্তেফাক এবং সংবাদ পত্রিকার পূণর্বাসনে তিনি এগিয়ে দিয়েছিলেন সহয়োগিতার হাত। যে সাংবাদিকরা বেকার ছিলেন তিনি তাঁদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সাংবাদিক জীবন:
বঙ্গবন্ধু নিজেও কিছুদিন সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি। তবে তিনি নিজেই যে সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক ছিলেন, সে কথা কখনও কোন ভাষণে তিনি উল্ল্খে করেননি। এ তথ্যটি জানা যায় ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে। সেখানে বিভিন্ন প্রসঙ্গে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর সাংবাদিক-জীবনের নানা কথা। কলকাতা থেকে চল্লিশের দশকে দৈনিক আজাদ-এর পর মুসলমানদের উদ্যোগে দৈনিক ইত্তেহাদ নামে আরও একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ইত্তেহাদ কেন প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর প্রকাশনার পেছনে কারা ছিলেন সে প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন,
… হাশিম সাহেব মুসলিম লীগের সভাপতি হতে চাইলেন। কারণ, মওলানা আকরম খাঁ সাহেব পদত্যাগ করেছিলেন। শহীদ সাহেব রাজি হন নাই। মওলানা সাহেবকে অনুরোধ করে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করিয়েছিলেন। হাশিম সাহেব রাগ করে লীগ সেক্রেটারী পদ থেকে ছুটি নিয়ে বর্ধমানে চলে গিয়েছিলেন। যখন তিনি কলকাতা আসতেন মিল্লাত প্রেসেই থাকতেন। হাশিম সাহেব এই সময় ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছিলেন। আমাদের অনেকেরই মোহ তাঁর উপর থেকে ছুটে গিয়েছিল।

সে অনেক কথা। তিনি কলকাতা আসলেই শহীদ সাহেবের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতেন। এর প্রধান কারণ ছিল মিল্লাত কাগজকে দৈনিক করতে সাহায্য না করে তিনি ইত্তেহাদ কাগজ বের করেছিলেননবাবজাদা হাসান আলী সাহেবের ব্যবস্থাপনা এবং আবুল মনসুর আহমদ সাহেবের সম্পাদনায়। মওলানা আকরম খাঁ সাহেবের দৈনিক আজাদও ক্ষেপে গিয়েছিল শহীদ সাহেবের উপর। কারণ, পূর্বে একমাত্র আজাদ ছিল মুসলমানদের দৈনিক। এখন আর একটা কাগজ বের হওয়াতে মওলানা সাহেব যতটা নন,তাঁর দলবল বেশি রাগ করেছিল। [শেখ মুজিবর রহমান: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ইউপিএল, ২০১১, পৃষ্ঠা ৭২]।

বঙ্গবন্ধুর এই লেখা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, দৈনিক ইত্তেহাদ বের হওয়ার পেছনে তৎকালীন বাংলার মুসলিম লীগের মধ্যেকার দ্বন্ধ কাজ করছিল। শহীদ সোহরাওয়ার্দী একদিকে যেমন মওলানা আকরাম খাঁ সম্পাদিত দৈনিক আজাদের প্রভাব থেকে বেড়িয়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন, তেমনি আবুল হাশিমদের মিল্লাত পত্রিকার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে চেয়েছিলেন। ফলে তাঁর অনুসারী আবুল মনসুর আহমদকে সম্পাদক করে নতুন কাগজ প্রকাশিক হল দৈনিক ইত্তেহাদ।[শেখ মুজিবর রহমান: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ইউপিএল, ২০১১, পৃষ্ঠা ৭২]।
বঙ্গবন্ধু লিখেছেন,
মানিক ভাই তখন কলকাতায় ইত্তেহাদ কাগজের সেক্রেটারি ছিলেন। আমাদের টাকা পয়সার খুবই প্রয়োজন। কে দিবে? বাড়ি থেকে নিজেদের লেখাপড়ার খরচটা কোনোমতে আনতে পারি, কিন্তু রাজনীতি করার টাকা কোথায় পাওয়া যাবে? আমার একটু সচ্ছল অবস্থা ছিল, কারণ আমি ইত্তেহাদ কাগজের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি ছিলাম। মাসে প্রায় তিনশত টাকা পেতাম। আমার কাজ ছিল এজেন্সি গুলোর কাছ থেকে টাকা পয়সা আদায় করা, আর ইত্তেহাদ কাগজ যাতে চলে এবং নতুন এজেন্ট বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ করা যায় সেটা দেখা। বেশি দিন ছিলাম না। তবু অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, কারণ কাগজে নাম আছে, টাকা বাড়ি থেকেও কিছু পাওয়া যাবে। [অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ৮৮]

বঙ্গবন্ধুর এই লেখা থেকেই বোঝা যায় দৈনিক ইত্তেহাদ-এর তৎকালীন ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ (পূর্ব বাংলার) প্রতিনিধি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর বেতন ছিল মাসিক তিনশত টাকা। এত টাকা বেতন তখন কোন সচিবও পেতেন না।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পড়লে কলকাতা থেকে বঙ্গবন্ধু এবং অন্যান্যরা ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার পর বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে পরেছিলেন। তবে তার প্রভাব যে তখনো দৈনিক ইত্তেহাদ-এ ছিল তার কিছু তথ্য পাওয়া যায় আত্মজীবনীতে। যেমন, ‘আমি ঢাকায় এলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি, আইন পড়ব। বই পুস্তক কিছু কিনলাম। ঢাকায় এসে শুনলাত গণতান্ত্রিক যুবলীগের এক সভা হয়ে গেছে। কার্যকরী কমিটির নতুন সভ্য কো-অপ্ট করা হয়েছে। পূর্বে ছিলাম সতেরজন এখন হয়েছে চৌত্রিশজন। কারণ, আমাদের সংখ্যালঘু করার ষড়যন্ত্র। আমাদের অনেকে নোটিশও পায় নাই। অন্য কোন কাগজ না ছাপলেও কলকাতায় ইত্তেহাদ কাগজ আমাদের সংবাদ ছাপাত ইত্তেহাদেও নোটিশ ছাপানো হয় নাই। [অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পূর্বোক্ত, পৃষ্ঠা ৮৭]
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠা ও কর্ম প্রয়াস:
সাংবাদপত্র শিল্পের ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল,জনবান্ধব করা, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার প্রসার ঘটানো, দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে থাকা এবং হলুদ সাংবদিকতা রোধের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৪ সালের এ্যাক্টের আলোকে(প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ১১ (বি) ধারা, ২০০২ সালে যা সংশোধিত।) একটি আধা বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা হয় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ছত্রিশ বছর ধরে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সংবাদপত্র শিল্পের গাইড হিসেবে কাজ করে চলেছে। দেশে সংবাদপত্র শিল্পের অবস্থাকে গতিশীল ও উন্নয়নের হাতিয়ার করতে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল যে আচরণবিধি প্রণয়ন করে এর উল্লেকযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে,
১. দেশের কোন সংবাদপত্র ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী কোন তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকবে। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সমুন্নত রাখবে।
২. সংবাদপত্রে যা প্রকাশিত হবে তা সবই হবে জনস্বার্থে। জনগণকে আকর্ষণ করে অথবা তাদের উপর প্রভাব ফেলে এমন বিষয়কে সংবাদপত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৩. সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য হতে হবে নির্ভুল ও সত্য।

৪. গুজব ও অসমর্থিত প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে সেগুলোকে চিহ্নিত করা এবং যদি এসব প্রকাশ করা অনুচিত বিবেচিত হয় তবে সেগুলো প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. সংবাদপত্র ও সাংবাদিক বিতর্কিত বিষয়ে নিজস্ব মতামত জোরালোভাবে ব্যক্ত করার অধিকার রাখেন।
৬. কুৎসা মূলক বা জনস্বার্থ পরিপন্থি না হলে বাহ্যত ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থবিরোধী হলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ স্বাক্ষরিত যে কোন বিজ্ঞাপন সংবাদপত্রে প্রকাশের অধিকার সম্পাদকের আছে। কিন্তু এই ধরনের বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদ করা হলে সম্পাদককে তা বিনা খরচে মুদ্রণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. ব্যক্তি অথবা সম্প্রদায়বিশেষ সম্পর্কে তাদের বর্ণ, গোত্র, জাতীয়তা, ধর্ম অথবা দেশগত বিষয় নিয়ে অবজ্ঞা বা মর্যাদা হানিকর বিষয় প্রকাশ না করা। জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সাম্প্রদায়িকতাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৮. অন্যান্য গণমাধ্যমের তুলনায় সংবাদপত্রের প্রভাবের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি; এ কারণে যে সাংবাদিক সংবাদপত্রের জন্য লিখবেন তিনি সুত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে বিশেষভাবে সাবধান থাকা এবং ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সুত্র সমূহ সংরক্ষণ করতে হবে।
৯. কোন অপরাধের ঘটনা বিচারাধীন থাকাকালীন সব পর্যায়ে তার খবর ছাপানো এবং মামলা বিষয়ক প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের জন্য আদালতের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করা সংবাদপত্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে বিচারাধীন মামলার রায় প্রভাবিত হতে পারে, এমন কোন মন্তব্য বা মতামত প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ঘোষণার আগ পর্যন্ত সাংবাদিককে বিরত থাকতে হবে।

১০. সম্পাদকীয়ের কোন ভুল তথ্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ যদি প্রতিবাদ করে, তবে সম্পাদকের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে একই পাতায় ভুল সংশোধন করে দু:খ প্রকাশ করতে হবে।
১১. বিদ্বেষপূর্ণ কোন খবর প্রকাশ করা যাবে না।
১২. সম্পাদক কর্তৃক সংবাদপত্রের সকল প্রকাশনার পরিপূর্ণ দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে।
১৩., সম্পাদক কর্তৃক সংবাদপত্রের সকল প্রকাশনার পরিপূর্ণ দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে।
১৪. কোন দুর্নীতি বা কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক বা অন্য কোন অভিযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের উচিত ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সাধ্যমতো নিশ্চিত হওয়া এবং প্রতিবেদককে অবশ্যই খবরের ন্যায্যতা প্রতিপন্ন করার মতো যথেষ্ট তথ্য যোগাড় করতে হবে।( সূত্র: বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল)

উল্লেখ্য, প্রত্যেকটি সংবাদপত্রেরই নিজস্ব নীতিমালা ও আদর্শ রয়েছে। প্রেস কাউন্সিল প্রবর্তিত আচরণবিধি এর বিরোধী কিছু নয়। আর এ কারণেই দেশের সংবাদপত্র শিল্প গণমাধ্যমের শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এই নীতিমালাগুলো সুনির্দিষ্ট করলে যা দাঁড়ায় তা হল-শালীনতাবোধ/বস্তুনিষ্ঠতা/সার্বিক ভারসাম্য রক্ষা,/ আক্রমণাত্মক মনোভাব বর্জন/ প্রলোভন ও তথ্যকে হত্যা না করা/ প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও প্রকাশ/ হলুদ সাংবাদিকতা বর্জন/ অশুভ চাপ থেকে মুক্ত থাকা/ নিজস্ব মতামত বর্জন/ভ্রান্তি স্বীকার ও সংশোধনী প্রকাশ/ সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব নীতিমালা মেনে চলা/ব্যাপক জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা/ দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের কর্তব্যবোধ/পক্ষপাতহীন সেবার মনোভাব/দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে থাকা/পাঠকের জন্য শিক্ষনীয় বিষয়াদির উপস্থাপন/দুস্থ-মানসিক ভারসাম্যহীনদের প্রতি সহানুভুতি/সকল জাতি,ধর্ম ও সপ্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ/সমাজ উন্নয়নে দায়িত্বপালন/বহুমুখী জ্ঞান, ধারণা ও বিষয় উপস্থাপন/পরিস্থিতিগত পরিমিতিবোধ/জনগণের জানার অধিকার/শিশুদের কথা ভাবা/একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে করণীয়ঃ-আইন – আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা/দোষীব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনদের কথা ভাবা/ছোটোখাটো অপরাধে গ্রেফতারকৃতদের পূর্ণপরিচয় প্রকাশ না করা/মানহানি বা নিন্দামূলক কাজ থেতৈ বিরত থাকা/রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য সম্পর্কে সতর্কতা/প্রতিবাদের সূযোগ দেয়া/তথ্য প্রকাশে চাপ না দেয়া/সংবাদসূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা/সংবাদসূত্রের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা/উদ্ধৃতি ব্যবহারে সতর্কতা/বিভ্রান্তিকর উক্তি সম্পর্কে সতর্কতা/সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে ধারণা

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে ঢাকায় একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা সেই সম্মেলনে তাঁদের মতামত রেখেছিলেন। তাঁদের সেই মতামত বাস্তবে রূপ দিতে অনেকটা পথ পেরিয়ে যায় প্রেস কউন্সিলের। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে কর্ম প্রয়াস শুধু দায়েরকৃত মামলা, মামলা নিষ্পত্তি এবং ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কিছু প্রশিক্ষণ কর্মশালার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যাকে বলা যায় রুটিন মাফিক কাজ। কাউন্সিল সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তুলেছে এখন। ২০১৪ সালে বর্তমান চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজউদ্দিন নেতৃত্বে এর কর্মপ্রয়াস পৌঁছে যায় তৃণমূলে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের আচরণবিধি ও নীতিমালা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে তাঁর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। তাঁকে যথাযথ ভাবে সহায়তা করছেন সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও অন্যন্য সহকর্মীরা।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দায়েরকৃত ৫১৭টি মামলার মধ্যে ৫১২টি মামলার রায় প্রদান করেছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে দৈনিক কালের কন্ঠ বনাম দৈনিক প্রথম আলোর মামলার রায়টি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সাংবাদিকতার নীতিমালা, আচরণবিধি এবং হলুদ সাংবাদিকতার ওপর দেশব্যাপী সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রশংশিত হয়েছে। এই প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

অযোগ্য, অদক্ষ ব্যক্তিরা যাতে সাংবাদিকতা পেশায় আসতে না পারে এ জন্য রেজিষ্ট্রিকৃত সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের সনদ প্রদানের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে সাংবাদিকদের সম্পর্কে একটি পরিসংখ্যন পাওয়া যাবে। অন্যদিকে প্রতিহত করা যাবে ভূঁয়া সাংবাদিকদের। পাশাপাশি রেজিষ্ট্রিবিহীন সংবাদপত্রের মালিকরা সহজেই ধরা পরবে। রেজিষ্ট্রিকৃত সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের নাম তালিকাভূক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এটি দফতরে সংরক্ষণ ও ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল তাদের কর্মপ্রয়াসকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ভারত ও নেপালের সাথে সমঝোতা স্মারক (এম ও ইউ) স্বাক্ষর করেছে। প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার আমন্ত্রণে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের ন্যাশনাল ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। নেপাল প্রেস কাউন্সিলের আমন্ত্রণে কাঠমুন্ডুতে সার্কভূক্ত দেশের প্রেস কাউন্সিলকে নিয়ে একটি জোট গঠনের প্রস্তুতিসভায় যোগ দেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।

চলমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সহ¯্রাব্দের উন্নয়নের লক্ষ্যে এখন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংবাদপত্র,বিভিন্ন বার্তা সংস্থা,বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল,সরকারী বেসরকারী রেডিও,অনলাইন পত্রিকা, অনলাইন বার্তা সংস্থা,অনলাইন রেডিও,অনলাইন টেলিভিশন,কমিউনিটি রেডিও-সবগুলো গণমাধ্যমেই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবতা। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ¯œাত যে সুখী সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন আজ তাঁর সুযোগ্য কন্যার হাত ধরে তা বাস্তবতণ পেয়েছে। এই বাস্তবতারই অংশ বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের বর্তমান প্রয়াস। (১৪ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস ২০১৭)

লেখক: গণমাধ্যম বিষয়ক গবেষক, লেখক, সাংস্কৃতি কর্মী।