অনুতপ্ত নন সাংবাদিক আলমিদা

Monday, 17/10/2016 @ 7:59 pm

:: প্রেসবার্তাডটকম ডেস্ক ::

almida-downজঙ্গি দমন নিয়ে সরকার ও সেনাবাহিনীর ‘অন্তর্দ্বন্দ্বের গোপন খবর’ ফাঁস করে দেওয়ায় তোপের মুখে পড়েছেন ডন পত্রিকার সাংবাদিক সাইরিল আলমিদা। সরকার আলমিদার খবর ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাঁর বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। তবে নিজেদের প্রকাশিত খবর নিয়ে অটল অবস্থানে রয়েছে ডন পত্রিকা ও সাংবাদিক আলমিদা। তাঁদের ভাষ্য, বারবার যাচাই করেই তাঁরা সঠিক খবর দিয়েছেন। আর এ জন্য অনুতপ্ত নন বলে জানিয়েছেন আলমিদা।

সপ্তাহজুড়েই আলোচনা-সমালোচনা পোহাতে হয়েছে সাংবাদিক আলমিদাকে। এই অভিজ্ঞতার কথাই ‘আ উইক টু রিমেমবার’ (মনে রাখার মতো একটি সপ্তাহ) শীর্ষক নিবন্ধে তুলে ধরেছেন আলমিদা। গতকাল রোববার ডন পত্রিকায় তাঁর নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

নিবন্ধের শুরুতেই আলমিদা বলেছেন, অনেকের অনুরোধে এই এক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা লিখতে বসেছেন তিনি।

আলমিদা ৬ অক্টোবরের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেদিন সকালে যখন ‘অন্তর্দ্বন্দ্বের গোপন খবরটি’ প্রকাশ করা হয়, তখন এর কোনো অংশ নিয়ে তাঁর অথবা ডন পত্রিকার কোনো সংশয় ছিল না। পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বৈঠকটি হয়েছিল ৩ অক্টোবর। এরপরেই ডন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করতে পারত। কারণ, আলমিদার কাছে সে সময় সব তথ্যই ছিল। কিন্তু প্রতিটি তথ্য বারবার যাচাই করা, সূত্র যাচাই করা ও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁরা আরও সময় নিয়েছিলেন। আর একেবারে নিশ্চিত হয়েই খবরটি প্রকাশ করেছিলেন।

আলমিদা লেখেন তাঁর এবং তাঁর পত্রিকার জন্য কেবল দুটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথম প্রশ্ন, বৈঠকটি হয়েছে কি না? আর দ্বিতীয় প্রশ্ন, বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু সব মাধ্যম থেকে যাচাই করা হয়েছে কি না?

আলমিদা অকপটে বলেন, সরকারের বিপক্ষে গিয়ে এ ধরনের কিছু করতে গেলে প্রথমে কিছুটা ভয় হয়। অনেক সময় নিজের বিপদের আশঙ্কাও থাকে। কিন্তু পরিস্থিতি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ ও তথ্য ঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করতে পারলে ভয় কমে যায়। ভেতরের অনেক তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। বৈঠকের খবরের সূত্রগুলো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ডন পত্রিকার সম্পাদনা কৌশলের কারণে সেগুলো বারবার যাচাই করা হয়েছে।

আলমিদা আরও বলেন, ‘এই খবরটি লেখার সময় আমি সতর্ক ছিলাম। জানতাম, এর প্রতিক্রিয়া হবে বোমা ফেলার মতো। কিন্তু আমি অনুতপ্ত নই। ডন পত্রিকার দুজন সম্পাদকের সঙ্গে আমি কাজ করেছি। তাঁদের কাছ থেকে শিখেছি সাহসের সঙ্গে কাজ করার।’ এ প্রসঙ্গে সম্পাদকদের একজন আব্বাস নাসিরের কথা উল্লেখ করেন আলমিদা। নাসির তাঁকে বলেছিলেন, ‘মনে রাখবে তুমি যা করছ তা-ই থেকে যাবে। সমালোচকেরা হারিয়ে যাবে।’

গণমাধ্যমের সমালোচনা ও প্রচারের কারণে বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানান আলমিদা। পাকিস্তানের গণমাধ্যমসহ বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে সমালোচনা ও চাপের মুখে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার তালিকা (এক্সিট কন্ট্রোল লিস্ট বা ইসিএল) থেকে তাঁর নাম বাদ দিয়েছে পাকিস্তানের সরকার। তবে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।

আলমিদার ‘জঙ্গি দমন করো অথবা আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হও’ (অ্যাক্ট অ্যাগেইন্টস মিলিশিয়াস অর ফেস ইন্টারন্যাশনাল আইসোলেশন) শীর্ষক প্রতিবেদনে লেখা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে ৩ অক্টোবর। সেখানে জঙ্গি দমনে কঠোর না হলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়বে বলে সরকার সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করেছে। সরকার সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে আরও বলেছে, জঙ্গি দল হাফিজ সাইদের লস্কর-ই-তাইয়েবা (এলইটি), মাসুদ আজহারের জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইম), হাক্কানি নেটওয়ার্ককে নিষিদ্ধ না করতে পারলে তাঁরা আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়বে।

ওই খবরে আরও বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই ও পাঞ্জাবের প্রাদেশিক মন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান রিজওয়ান আখতারের দিকে অভিযোগের তির ছোড়েন। শাহবাজের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের কারামুক্ত করতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে আইএসআই।

পাকিস্তানের জেনারেলের সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের তথ্য জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।