গণমাধ্যমেও একজন ‘ইকবাল মাহমুদকে’ বড়ই প্রয়োজন

Friday, 14/10/2016 @ 12:44 am

:: আকাশ মো. জসিম ::

kolomঘরে বাইরে। সবখানে। সর্বত্রই। দুর্নীতির বিরুদ্ধ শক্তি যেমন সক্রিয়, সোচ্চার, তেমনই লালনকারীরাও বিপরীত মেরুতে শক্তিধর। গত ৮ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে দৈনিক প্রথম আলোর শীর্ষ শিরোনামে মূদ্রিত একটি খবর পর্যালোচনা করেই আমার ক্ষুদ্রবিবেকে কিছুটা কুঠারাঘাত করে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে যে, “ ব্যাংকিংখাতে, গত সাড়ে ছয় মাসে ৭০ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার।”

খবরটিতে এক মন্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছেন, তাদের অবশ্যই ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে হবে।” একই খবরের বিপরীতে এবিবির চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন, “ ভয়ভীতি দেখাতে থাকলে ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্থবিরতা আসবে।” আমরা মনে করি, পরেরজন নিজের জ্ঞান-গর্বের গৌরবোত্ব যতই জাহির করেন না নিশ্চিত তিনি এক দুনীতির বরপুত্র এবং স্পষ্টতই এর মূল লালনকর্তার দলের অন্যতম।

তিনি ভয় দেখাচ্ছেন যে, অভিযুক্ততার দায়ে দুর্নীতিবাজরা চাকুরি ছেড়ে দিলে ব্যাংকিং খাতের জনবল শূণ্যতা দেখা দেবে।” তার উপরোক্ত মন্তব্য একটি হাস্যকর ও কোন উন্নয়নশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার সাথে চরম প্রতারণার শামিল বলে মনে করি। যে দেশে কোটি কোটি শিক্ষিত বেকার স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন জীবন যাপনের নিরীখে একটি চাকুরি পাওয়ার জন্যে হন্য হয়ে ছুটে, সেদেশে কোন কুটিল ছলচাতুরি দেখিয়ে লাভ নেই।

আনিসরা এদেশের ব্যাংকিং খাতকে একটি আতঙ্কজনক সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। মানুষ আজ ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করতে বড়ই আতঙ্কিত। নৈারাশ্য। ভীত। শিয়ালের কাছে মোরগ বর্গা রাখার মতো। ইতোপূর্বে, দুদক কর্তাব্যক্তিরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে এ প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে জনআস্থার আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছেন আমরা মনে করি ইকবাল মাহমুদ চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব নিয়ে একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষার মূল চেতনায় কাজ করছেন।

মানুষ আজ দুদককে চোর, দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রিত করার একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভাবতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে নমস্য। তথাপি কিছু অসাধ্য ব্যক্তি কর্তারা সেসব জননন্দিত কর্মের প্রতি সাধুবাদ না জানিয়ে কিংবা অভিনন্দিত না করে নিন্দিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। আমরা মনে করি, তারা স্বীকৃত চোর ও দুর্নীতিবাজদের সক্রিয় পরম আত্মার স্বজন।

গত ৮ অক্টোবর, দৈনিক জনকণ্ঠের উপ সম্পাদকীয় পাতায় দেখলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পদ দখলকারী এক ব্যক্তি দেশের একজন নারীনেত্রীর বন্ধনা করেছেন। আমার জানা মতে, এ ব্যক্তির বর্তমান বয়স প্রায় সত্তোরোর্ধ। তিনি নামে একজন মুসলমানও। নামজ পড়েন কিনা, আর পড়লেও নিয়মিত কিনা- সে প্রশ্ন আমার মনে উঁকি দিলেও সেটা আজ মূখ্য নয়। কেননা আল্লাহর কাছে তার বিচারের তাকেই সাজা ভোগ করতে হবে।

কিন্ত, আমার বক্তব্য হলো, যতসব চাটকারের দলকে নিয়ে। বলছিলাম জাতীয় প্রেসক্লাবের মান্যবর সভাপতির কথা। তিনি একটি রাষ্ট্রের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান দখল করে ওই চেয়ারের স্বাদ, গন্ধে বিভোর হয়ে মহান আল্লাহর কোন বন্ধনা করছেন বলে আমি তার কোন লেখায় দেখিনি। তিনি প্রেসক্লাবের চেয়ার দখলের আগে কবে-কোথাও, কোন সময়ে, কোন পত্র-পত্রিকায় কিংবা বক্তৃতায় ওই নেত্রীকে নিয়ে একটি তোয়াজও অন্তত আমার চোখে পড়েনি। হালে তিনি কতই না কীর্তি গায়ে লাগাচ্ছেন ওই নেত্রীর।

অথচ, এ বি এম মুসা বেঁচে থাকলে বলতেন থামুন, যথেষ্ঠ হয়েছে। আর নয়। এবার সভ্য-স্বাধীনতার মূল চেতনায় ফিরুন। গনতন্ত্রের কথা বলুন। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনুন। আমরা মনে করি, মুসাদের অভাবজনিত কারণে আজ এসব চাটুকাররা রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা ও ধ্বংসযজ্ঞের হাতছানিকে স্বাগত জানিয়ে সাফল্যের জয়মাল্য পরার প্রহর গুণছে। সেস্থলে একজন ইকবাল মাহমুদকে এগিয়ে দিলে গণমাধ্যম তার হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে পারতো কিংবা একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাও অক্ষুন্ন থাকতো। তাই নয় কি!

লেখক, সম্পাদক, দৈনিক দিশারী, নোয়াখালী।