‘গন্ডামারায় গুলি, লাশ : ষোল প্রশ্নের উত্তর চাই’

Tuesday, 05/04/2016 @ 11:43 pm

:: মাসুদ ফরহান অভি ::

Mashud Forhan Ovi

প্রথম প্রশ্ন, গত দুই মাস ধরে চলমান বাঁশখালীর গন্ডামারায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আন্দোলন জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে কেন গুরুত্বসহকারে ঠাঁই হয়নি?

দ্বিতীয় প্রশ্ন, ৪ এপ্রিল দুপুর ১২টায় স্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত সমাবেশস্থলে যে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছিল তা উপজেলা প্রশাসন কখন, কিভাবে এলাকাবাসীকে অবহিত করেছিল? বাঁশখালীর স্থানীয় সাংবাদিকসহ গণমাধ্যম কর্মীদের কেন ১৪৪ ধারার খবর উপজেলা প্রশাসন আগে থেকে জানায়নি? নাকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৪৪ ধারার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করে টেবিলেই ফেলে রেখেছিলেন?

তৃতীয় প্রশ্ন, এলাকাবাসী যখন কথিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলো তখন পুলিশ তাদের নিবৃত করতে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছোঁড়ার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেনি কেন?

প্রশ্ন নম্বর চার, পুলিশের হামলায় আহতদের কেন বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি? শুধু পুলিশ সদস্যদের জন্যই কি রাষ্ট্র গোটা উপজেলা মিলে একটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছিল?

প্রশ্ন পাঁচ, ৪ এপ্রিল দুপুর ১২ টায় ঘটনা শুরু হলেও প্রথম সারির টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন গণমাধ্যম কেন গুরুত্বসহকারে বিষয়টি তুলে ধরেনি?

প্রশ্ন ছয়, লাশের সংথ্যা তিন, চার, পাঁচ, ছয় নাকি একটিও নয় প্রশাসন কেন ১২ ঘন্টা পরও নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি?

প্রশ্ন সাত, বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন পুলিশ নিজেদের বন্দুক দিয়ে গুলি করেনি। তাহলে পুলিশ কি থানায় জব্দ থাকা সন্ত্রাসী কিংবা ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি করেছে?

প্রশ্ন আট, ৪ এপ্রিল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর কর্মকর্তা নাছির উদ্দিনের নের্তৃত্বে প্রথম আন্দোলনকারীদের উপর হামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কে এই নাছির উদ্দিন? আর তার খুটির জোরই বা কোথায়?

প্রশ্ন নয়, বাঁশখালীর গন্ডামারার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে নিশ্চয় প্রতিষ্ঠান দুটিকে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকার কেন ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহন করে দেয়নি? নাকি সরকারকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওই দুটি প্রতিষ্ঠান বাঁশখালীর গন্ডামারার উপকূলীয় এলাকার জমিগুলো নিজেদের জমি বলে দেখিয়েছে?

প্রশ্ন দশ, সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ওই এলাকার পবিবেশের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর তা পরিবেশ অধিদফতর কিংবা সরকারী কোন সংস্থা নিরুপন করেছে কিনা?

প্রশ্ন এগারো, রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহন ছাড়া যেখানে সরকারী সংস্থাও জনসাধারণের জমি দখলে যেতে পারে না, সেখানে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে জনসাধারণের ভূমি দখল করার এখতেয়ার কে দিয়েছে?

প্রশ্ন বার, রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী বেসরকারী কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান চাইলেই তাদের কাছে জনসাধারণ নিজেদের ভিটে-মাটি বিক্রি করতে বাধ্য কিনা?

প্রশ্ন তের, গত দুই মাস ধরে চলমান কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আন্দোলন যৌক্তিক কিনা- তা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হয়েছে কিনা? যদি অযৌক্তিক হয়ে থাকে তাহলে জনসাধারণকে কয়লা বিদ্যুতের পক্ষে যুক্তিসহ বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে কিনা?

প্রশ্ন চৌদ্দ, সরকারী দলের এমপি থেকে শুরু করে নির্বাচিত কোন নেতাই কেন এলাকাবাসীর সাথে একাত্মতা পোষণ করেনি? জামায়াত সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যানের ভূমিকা এই আন্দোলনের বিপক্ষে কেন ছিল? অর্থাৎ বাঘ-মহিষ কেন এই কয়লা বিদ্যুতের বেলায় এক ঘাটের পানি খেল? বিএনপি’র এক নেতা কেন অতি উৎসাহী হয়ে আন্দোলনকে সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন?

প্রশ্ন পনেরো, ওই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দালালদের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকাবাসীর বসত-ভিটা, জমি তাদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য করার যে অভিযোগ উঠেছে তা কি সরকার জানতো না? জেনে থাকলে সরকার কি ব্যবস্থা নিয়েছে? না নিলে কেন নেয়নি?

প্রশ্ন ষোল, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির বিষয়ে গভর্নর ড. আতিউর জড়িত কিংবা অভিযুক্ত না হয়েও পদত্যাগ করেছেন। তাহলে গন্ডামারার ঘটনায় কার কার পদত্যাগ করা উচিত কিংবা কার কার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?

লেখক: সাংবাদিক
মেইল: forhanovi6@gmail.com