সাংবাদিক দম্পতির হত্যারহস্য এবং…

Thursday, 11/02/2016 @ 5:36 pm

:: আকাশ মো. জসিম ::

kolom১০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রথম পৃষ্ঠায় বক্স কলামে “ ৪৮ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি ৪৮ মাসেও ” শিরোনামে সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনুর হত্যাকান্ডের রহস্য নিয়ে স্ববিস্তারিত খবর ও গণউদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে।

খবরটির সাথে একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমরাও উদ্বিগ্ন। কেননা, ঢাকা তথা মহামান্য রাজ্যেও শীর্ষস্থানীয় জায়গার বুকে জাতীয় গণমাধ্যমের দু’জন মেধাবী মুখ নিজ বাসায় খুন হওয়া কোনভাবেই সহজ ও স্বাভাবিক ঘটনা নয়। স্বভাবিকভাবে আমরা চিন্তিত হই যে, রাজধানীতে নিজ বাসায় দু’জন দম্পতির খুনের রহস্য প্রকাশ ও বিচারের ধারাবাহিকতার যদি এ অবস্থা হয়; আমরা যারা জেলা শহরে সংবাদ ছাপানোর পেছনে ছুটে বেড়াই আমাদেরই বা ভূত-ভবিষ্যত তথা দুরাবস্থা কত করুণ, নির্মম ও অমানবিক হতে পারে; তা চরম অভাবনীয়ও!

এ হত্যাকান্ডের সময় সে সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেরা খাতুন বলেছেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনির হত্যাকান্ডের রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের কাজ এগিয়ে নিতে নিয়োগ করলেন পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। সাথে র‌্যাবও। আরো বিদেশী কত কি! (সবই যেন কথার কথা, একটি নিত্য তামাশাও!)

রাষ্ট্রের একজন দায়িত্বশীল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এরুপ ঘোষণায় আমরা কিছুটা আশান্বিত হলেও আজো পূর্বাপর সবই রহস্যাবৃত। এরপর একপর্যায়ে, মহি উদ্দিন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নিয়ে তিনিও নানা কুটকৌশলে বলছেন, এটি তাঁর জন্যে একটি চ্যালেঞ্জ। একসময় তিনিও চলে গেলেন । কিন্ত, হত্যারহস্যের কোন কুলকিনারা পায়নি সাংবাদিকেরা।

অবশ্য, এ নিয়ে সেসময়ে পুরো গণমাধ্যম নেতারা একটেবিলে বসলেও সরকারের ইন্ধনে ও লোভনীয় প্রস্তাবের জালে আটকে গেলেন সুযোগসন্ধানী আরেক সাংবাদিক নেতা।

তাঁর বিষয়ে গণমাধ্যম পাড়ায় নানামুখরোচক আলোচনা-সমালোচনাও রয়েছে। কেউ-কেউ বলেছেন, নাগর রুনির হত্যার বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে সরকারের টনক নড়লে সরকার সেসবের মুখে ছাঁই দিতে ওই নেতাকে হাত করে নেন। ওই সাংবাদিক নেতাকে সরকারের তথ্য উপদেষ্টাসহ আরো ক’জন সাংবাদিক নেতাকে সরকারের লোভনীয় পদে ক্ষমতাসীন করে রীতিমতো এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের মুখই বন্ধ করে দিলেন।

সাংবাদিকদের ধারণা, হত্যাকান্ডের রহস্য ফাঁস হলে সরকারের ঘনিষ্ঠজনেরাও আটকা পড়তেন প্রতিবেদনে। যে কারণে ওইসব সাংবাদিক নেতাকে হাত করে সাংবাদিকদের আন্দোলন-সংগ্রামকে দ্ধিধা বিভক্ত করলেও আমরা মনে করি ওই সাংবাদিক নেতারা নিজের ঈমান-আকীদা ও বেশভূষার সাথেই নিয়মিত প্রতারণা করছেন।

একজন সাংবাদিক নেতা ব্যক্তিগত জীবনে কোটি কোটি টাকার লাভবান হলেও সাংবাদিকতা পেশা তথা সাংবাদিক দম্পতির এতিম মেঘের সাথেই বিশ্বাসঘাতকা করেছেন।

জনশ্রুতি রয়েছে যে, সে সাংবাদিক নেতা পেটে পিঠে কোন রকম চলতে কষ্ট হলেও বর্তমানে সাগর রুনির হত্যাকান্ডের রহস্যহত্যার প্রচেষ্টার নায়ক হিসেবে নিজে একটি ইংরেজি পত্রিকাসহ ইলেক্টনিক্স গণমাধ্যমেরও মালিক হয়েছেন।

এরপর সাংবাদিকদের আন্দোলন-সংগ্রাম আর এগোয়নি। এবং মাঝপথে সরকার বিশেষ ফন্দি-ফিকিরের মাধ্যমে সাংবাদিকদের দাবি দাওয়া আদায়ের মূল সূতিকাগার জাতীয় প্রেসক্লাবকে নিজের আয়ত্বে নিয়ে গেলেন পুরোপুরিই। সভাপতির আসনে বিনা নির্বাচনে বসালেন সরকারের আরেক লোভনীয় ফুটফরমায়েস পালনকারী জনৈক শফিকুর রহমানকে।

এরপর শফিকুর রহমান সভাপতির চেয়ারে বসার পর একটি দিনের জন্যেও সাংবাদিক দম্পতির বিচার নিয়ে টু শব্দ উচ্চারণ না করলেও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় সমসময়ে নিজেকে আওয়ামী লীগের তথা সরকারের পদলেহনকারীর ভূমিকায় নিয়মিত পরিচিত করছেন।

প্রথিতযশা সাংবাদিকদের অনেকে বলেছেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ও বটে। তিনি তাঁর প্রতিটি লেখায় শুধুমাত্র জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয়ে ইতহাসবেত্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নিজেকে আওয়ামী লীগের পূতপবিত্র সন্তান হিসেবে প্রমাণ করার কুপ্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও বিপরীতে সাংবাদিক পুত্র এতিম মেঘের সাথেও প্রতিনিয়তই প্রতারণা করছেন বলে আমাদের বিশ্বাস। যা একটি জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রধান নেতার কাছে কোনভাবেই কাম্য নয় ও ছিলনা।

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক দিশারী ও সাধারন সম্পাদক,

সংবাদপত্র সম্পাদক কল্যাণ পরিষদ, নোয়াখালী।