জাতীয় প্রেসক্লাব ও একটি জনপ্রত্যাশার মৃত্যূ

Tuesday, 26/01/2016 @ 12:42 am

:: আকাশ মো. জসিম ::

 

kolomপ্রখ্যাত এক কবি বলেছেন, “ বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।” কথাটির বাস্তবতা যুগযুগ ধরে প্রামাণ্য ও চরম সত্যাসত্য। বনের কোন এক জন্তকে রাজ্যের শাসকের চেয়ারে বসালে তার কাছে যেমন সুষ্ঠু, সুন্দর, প্রগতিশীল ও সুশৃঙ্খল রাজ্য আশা করা যায়না; তেমনি কোন এক রাষ্ট্রের জাতীয় কোন গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে কোথাকার কোন অযোগ্য, অদক্ষ ও বেহায়পনাকে বসালে তার কাছে মোটেই একটি প্রত্যাশিত রাজ্য কামনা করা সহজসাধ্য হয় না।

গত বছর রাষ্ট্রীয় গোলযোগের একপর্যায়ে ও সরকারের প্রকাশ্য আসকারায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতির চেয়ারে কতেক নামখাওয়াস্ত বিএনপি সমর্থকদের সাথে আঁতাত করে বসলেন শফিকুর রহমান। তিনি কোন পত্রিকার বিশিষ্ট সাংবাদিক তা হয়তো আমার জানা নেই। যে কমিটির পর্ষদের বিবরণে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ্যে প্রচারিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ১০, বিএনপি ৭।

এই ভদ্রলোক সভাপতির চেয়ারে বসার পর ভদ্রলোকের স্বীয় কার্যকলাপ, ভদ্রতা ও সৌজন্যতার অপমৃত্যূ ঘটিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব ক্রমেই একটি একদলীয় প্রতিষ্ঠানেই পরিণত হচ্ছে।

তবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতির চেয়ারে বসার পর বয়োবৃদ্ধ এ লোককে জানার ও চেনার চেষ্টা করছি। প্রত্যাশিত বাস্তবতার মৃত্যূক্ষণে এ সাংবাদিক নেতার (আত্মস্বীকৃত) একটি দলীয় লেজুড়বৃত্তিয়ানা, চাটুকারিতা ও চামচামি দেখে প্রচন্ড কষ্টের দহন থেকে এ লিখার চেষ্টা করছি।

জাতীয় প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারার ব্যর্থতায় গনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে সভাপতির চেয়ারে বসা এ ভদ্রলোক বিনা নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সভাপতির চেয়ারে বসার পর একজন নাগরিক তথা সংবাদসেবী হিসেবে আমরা আশা করেছিলাম জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সর্বক্ষেত্রে গনতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার ও সজাগ হবেন। সাংবাদিকদের স্বার্থে কিছু করার এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।

কিন্ত, বড়ই র্দুভাগ্য তিনি আরো বেশি অগনতান্ত্রিক ও সর্বোচ্চ স্বৈরতান্ত্রিকার পূজারীর ন্যায় আর্বিভূত হলেন পুরো দেশ ও জাতির ঘাড়ে। এ ভদ্র লোক কোন পত্রিকার নির্দিষ্ট সাংবাদিকতায় না থাকলেও হালে প্রায়শই দৈনিক জনকণ্ঠে কলাম লেখেন। পদবী লেখেন, লেখক: সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব। যা সর্বোবৈভব রাজনৈতিক, পেশাদারিত্বহীন ও অসাধুসম্পন্ন। যার সিংহভাগই একপেশে ও দুষ্ট।

জনাব শফিকুর রহমান গত শনিবার দৈনিকটির চতুরঙ্গ পাতায় তিনি লিখেছেন “ জনগণ খালেদা জিয়াকে আর ক্ষমতায় দেখতে চাননা। ” তিনি লিখেছেন, শেখ হাসিনাকে আরো দুই টার্ম সময় দেয়া উচিত। তার মানে তিনি চান, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি মতো বিনা ভোটে আরো ১০টি বছর সর্বমোট ১৫টি বছর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকুক। তাহলে তিনিও হয়তো শেখ হাসিনার ক্ষমতার রেশটেনে জাতীয় প্রেসক্লাবেও বিনা ভোটে এবং বিনা প্রতিযোগিতায় সভাপতির চেয়ারে বসে প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় মর্যাদার বারোটা বাজিয়ে ছাড়তে সুবিধা হয়!

এরপর তিনি কেন বা কি কারণে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চাননা তা প্রকাশ করেননি। শফিকুর রহমানের লিখিত কোন একটি কলামে আওয়ামী লীগের চরম ঘৃণ্য ও জনবিরোধী কর্মেরও মাহাত্ম্য রয়েছে। তিনি তাদের কোন কর্মেই দোষ খুঁজে পাননা। তিনি খুঁজে পান আওয়ামী লীগের সর্বত্র সব কর্মেই সুগন্ধ ও গোলাপভরা সুমিষ্টি।

তার লেখালেখির ভাব-গাম্ভীর্য দেখে মনে করি তিনি আসলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি না হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি কিংবা শেখ হাসিনার উপদেষ্টা হলে হয়তো আওয়ামী লীগকে যুগযুগ ধরে ক্ষমতায় রাখা যেতো।

আমরা মনে করি, জাতীয় প্রেসক্লাবের মতো একটি জাতীয়, জনগুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারে বসে দলীয় লেজুড়বৃত্তি একটি চরম ঘৃণ্য, অপমানজনক ও চরম খারাপ দৃষ্টান্ত। যা একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাহানিকরও বটে।

আমরা আশা রাখতে চাই, বয়োবৃদ্ধ এই নেতা কলাম লেখতে গিয়ে খালেদা জিয়ার দোষ-ত্রুটি খোঁজার পাশাপাশি শেখ হাসিনারও তোষামোদগার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্টিত করবেননা। অন্তত জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি পদমর্যাদা রক্ষার স্বার্থে হলেও।

লেখক : সম্পাদক, দৈনিক দিশারী ও সাধারন সম্পাদক, নোয়াখালী সংবাদপত্র সম্পাদক কল্যাণ পরিদ।