নোয়াখালীর হালের সাংবাদিকতা…

Thursday, 19/11/2015 @ 4:09 pm

:: আকাশ মো. জসিম ::

kolomসত্যি কথা বলতে গেলে অনেকেই চটে যান। বলেন, লোকটা যেন কিছু একটা হয়ে গেছে। তারপরও সার্বিক দায়ভার কাঁধে নিয়ে লিখি। কেউ না কেউ তো লিখতে হবে সমাজের সংঘটিত অসঙ্গতির বিরুদ্ধে। হয়তো সে জায়গা থেকে নিজেকে মনে করছি।

সাংবাদিকতা নিয়ে লেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি অনেক আগেই। কেননা সাংবাদিকতা নিয়ে লিখতে গেলে অনেকেরই চক্ষুশূল হতে হয় হরহামেশাই। তবুও যেহেতু নিজেকে এ জায়গায় জড়িয়ে নিয়েছি আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। এটি আমার একমাত্র পেশা ও নেশা হওয়ার কারণে এ নিয়ে শুরু থেকেই সোচ্চার থাকার চেষ্টা করি।

প্রসঙ্গত, যে যেভাবে নিন না কেন, প্রথমে নিজেকে একটু আত্মসমর্পন করে বলি, আমারও ব্যক্তিজীবনে সাংবাদিকতায় একটি বেসরকারী সংস্থায় গণমাধ্যম বিষয়ক ও পিআইবির দু/তিনটি প্রশিক্ষণ ছাড়া অতো কিছু জানা নেই। ব্যক্তিজীবনে আমি স্নাতক ও এলএলবি পাশ করি। শিক্ষাজীবনে ১৯৯৩ সালে মানবিক বিভাগে ষ্টার মার্কসসহ পঞ্চম, নবম এবং একাধিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বৃত্তি লাভ করার কথা বলে নিজের মধ্যে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর গিলি। হতে চেয়েছিলাম প্রশাসনিক কোন এক আমলা। ভাগ্যের কোন এক বিধিবামে সে আর হয়ে ওঠেনি।

হালে সাংবাদিক। ১৯৯৬ সালে জনাব কামাল উদ্দিন আহমেদ-কে দেখে এ জগতে আসার চেষ্টা করি। চারদিকে, তাঁর সুবিশাল নাম ডাক। যশ-খ্যাতি-সুনাম। লেখাপড়ায় সেকালের এম.এ। এবং এও দেখেছি, তিনি জেলায় ডিসি কিংবা এসপিকে এতো তোয়াজ করতেননা। তিনি বলতেন, আল্লাহই সব। বাকী সব মিথ্যে। সে এক পথচলা।
পরবর্তীতে, মনে করছিলাম তাঁর সাময়িক অন্যরও নিশ্চয় লেখাপড়ার দৌড়ে কম হওয়ার কথা নয়। এরপর ধীরে ধীরে ভাব-সাবধারী অন্যদের সাথেও নিজের বিভিন্ন কারণ অকারণে সখ্যতা গড়ে ওঠছে। এক সময় নিজেকে আবিষ্কার কররলাম, হায়! আমরা এ কোথায় আছি। এ কোথায় বিচরণ করছি আমরা। সবই পান্ডিত্যের ভাবসাব। আসল প্যাকেটে নকল চেনা দায়।

সাংবাদিকতার সার্বিক অবক্ষয়চিত্রে সচেতন নাগরিকরা উদ্বিগ্ন। ইদানিংকালে আরো বেশি বেপরোয়া ও নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ছে নোয়াখালীর প্রায় স্থানীয় সাংবাদিকতা। শিক্ষা-দীক্ষা, লেখাপড়ার বালাই নেই। ক্যামেরাম্যানরাও আজকাল বড় বড় টিভির জেলা প্রতিনিধি। কখনও কখনও ষ্টাফ রিপোর্টারও। নোয়াখালীর সাংবাদিকতায় তোয়াজ নিয়েও নাগরিক সমাজে নানা কথা প্রচলিত রয়েছে। আমরা মনে করি, হালের সাংবাদিকরা তো তোয়াজ করারই কথা। অবশ্য, এ নিয়ে রীতিামতো প্রতিযোগিতাও। যে এমপি, মন্ত্রীর যত বেশি তোয়াজ করতে পারছেন তিনি হচ্ছেন সবচেয়ে নামীদামি ও প্রভাবশালী সাংবাদিক। কারণ, শিক্ষা-দীক্ষা আমাদের কারই বা কি আছে। তা সবার জানা। এখানকার সাংবাদিকতায় মোসাহেবী, চাটুকারিতায় একমাত্র কর্ম যোগ্যতা। এ কালের সাংবাদিকরা তো প্রায়ই চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর চেয়ে যোগ্যতার ভারে শূন্যের কোঠায়। তবুও শূন্য কলসী বাজে বেশি।

প্রশ্ন জাগে, নিজের প্রকাশিত একটি খবর জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হতে শুরু করে সর্বনিম্ম কোন রকম অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন্ মানুষও তো পড়বে। কিন্ত লেখাপড়ার বালাইহীন হলে তাঁর লেখায় অন্যরা কিবা পাচ্ছে, বা পাবে।

আবার দেখি, প্রায় জাল কবলাধারীরাও সাংবাদিক বনে যাচ্ছেন। তাও জেলার সর্বত্রই তাদের দৌরাত্ম্য। এমনকি কোন কোন সাংবাদিক সংগঠনেও। প্রশ্ন হচ্ছে, নিজেকে যদি কয়েদীর খাতায় রাখি অন্য কয়েদীদের সাজার খবর লেখার বৈধতা বা কোথায়! সে কারণে বলি, সত্যি বিচিত্র এই বাংলাদেশ।

শুধু তাই নয়, এ জেলায় কোন রকম এসএসসি বা তার নিম্নজনেরাও পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক হচ্ছেন। তাই সচেতন নাগরিকদের মতো আমরাও অবাকচিত্তে বলি, যে জেলায় সম্পাদক হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন দরকার হয়না, সে জেলায় সাংবাদিক হতে বা শিক্ষা-দীক্ষার কি প্রয়োজন!

এ কারণে এ জেলায় সত্যিকারভাবে কোন পত্রিকা সুপ্রতিষ্ঠা পায়নি। কারণ সম্পাদকের নাম প্রকাশ হলেই পাঠক বলে ওঠে আরে এ আবার সম্পাদক হয় কিভাবে! সঙ্গতকারণে তার পত্রিকাও দেখা তো দুরে থাক, হাতে নিতেও নারাজ সচেতন কোন পাঠক সমাজ।

অবশ্য, এসব পত্রিকার প্রকাশকরাও রাজনৈতিকভাবে তদবিরবাজি করে প্রায় পত্রিকার সম্পাদক বা প্রকাশক হয়েছেন। এ কারণে অনেকগুলো পত্রিকার সম্পাদক বা প্রকাশক জীবনে দু’লাইন না লিখেও সম্পাদক বনে গেছেন। তাই বলি, আমরা কি ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে অন্তত সাংবাদিকতা কিংবা সম্পাদনায় এ জেলাকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষাকল্পে নোয়াখালীর সাংবাদিকতার প্রয়োজনে একটা যোগ্যতার মান নির্ধারন করতে পারিনা?

এখন সময়ই, এ জেলায় সঠিক, বস্তনিষ্ঠ ও শিক্ষা সমৃদ্ধ সাংবাদিকতায় সেসব নকল প্যাকেটে আসলরুপীদের সনাক্ত করে প্রত্যাহার কিংবা বর্জন করা খুবই জরুরী। এবং কামনা করি ভবিষ্যত নোয়াখালীর স্বার্থে নোয়াখালীতে উন্নত সাংবাদিকতা, সম্পাদনার মান উন্নয়ন খুবই জরুরী ও অতীব আবশ্যকীয়।

লেখক: আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী।