সাংবাদিক কাম দলবাজ!

Saturday, 24/10/2015 @ 11:59 pm

:: আকাশ মো. জসিম ::

newsmediaনীতির কথা বলতে গেলেই বলা হবে পাগলের প্রলাপ। সর্বক্ষেত্রে অবক্ষয়। কী জাতীয়, কী স্থানীয়। নীতি-নৈতিকতার বালাই এখন কাগজে কলমেও নেই। রাষ্ট্রের সবগুলো স্তম্ভ যদি দলবাজির কবলে আক্রান্ত হয়, জাতি হিসেবে নীতি নৈতিকতার অবকাশই বা কোথায়! আজ পুরো দেশ হতেই হারিয়ে যাচ্ছে স্বতন্ত্র তথা নিরপেক্ষতার জায়গাটুকুও।

নিরপেক্ষতার ছদ্মাবরণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এখন সক্রিয় দলবাজি ও পক্ষপাতিত্ব করার কারখানায় পরিণত হয়েছে। একনায়কতন্ত্র কিংবা স্বৈরতান্ত্রিকতাই আজ গণতন্ত্রের মূল চবকে পরিণত হচ্ছে। এবং আশঙ্কা করা অমুলক নয় যে, সে সময়ও বেশি দুরে নয় হয়তোবা গণতন্ত্রের চেয়ে একনায়ক তথা স্বৈরতান্ত্রিকতাই এদেশের মানুষের কাছে একটি অবাধ ও গ্রহনযোগ্য শাসনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও।

প্রাসঙ্গিকভাবে বলি যে, জাতীয় প্রেসক্লাব নামের গণমানুষের অন্যতম আস্থার ও শ্রদ্ধার স্থানটুকুও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় আজ দলবাজির কারখানায় পরিণত হয়েছে। বিনাভোটে এখানে সভাপতি, সাধারন সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী পরিবার গঠিত হয়েছে। যা এ দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনারই নজির। যার শিরোনাম ছিল আওয়ামী লীগ ১০, বিএনপি ৭। এরপরই দেখা গেছে, সভাপতি নামের মানুষটিও সরাসরি দলবাজি, চাপাবাজি, পক্ষপাতিত্বে নিজের পেশায় নেশায় পরিণত করে জাতীয় প্রেসক্লাব নামের গণমানুষের প্রিয় ভরসার স্থানটিকে দলবাজির স্থায়ী ঠিকানায় পরিণত করেছেন।

এ মানুষটি সাম্প্রতিক সময়ে দৈনিক জনকণ্ঠে বিভিন্ন সরকারী নীতিকথার সাফাই গেয়ে একাধিক উপ-সম্পাদকীয় রচনা করেছেন। প্রকাশিত বিভিন্ন উপ-সম্পাদকীয়গুলো পড়লে যে কোন সচেতন নাগরিকই বুঝতে দুর্বোধ্য হবেননা যে, উনি সরাসরি চাটুকারিতার নমুনায় কতদাপ এগিয়ে নিচ্ছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতির পদটিকে।

তাঁর প্রকাশিত সবগুলো লেখনিতেই সরকারী যাবতীয় সিদ্ধান্তই সাধুবাদ পাচ্ছে কোথাও তিনি দোষ ত্রুটি খুঁজে পাননি। কিছুদিন আগে জনকন্ঠের বিরুদ্ধে আদালত আবমাননার এক মামলায় তাঁকে যেভাবে জনকন্ঠ পরিবারের সাথে আদালত প্রাঙ্গনে দেখা গেছে, তাকে সাধুবাদ জানালেও এ মানুষটি সভাপতির চেয়ারে বসার পর একটি দিনের জন্যেও সাংবাদিক নেতা ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক নির্বাচিত সভাপতি শওকত মাহমুদের মুক্তির দাবি নিয়ে একটি কথাও বলেননি। তাও একটি দু:খজনক ঘটনারই উদাহরন। তিনি একটি দিনের জন্যও বলেননি আমার দেশ সম্পাদকের মুক্তি কিংবা পত্রিকাটি খুলে দেয়ার বিষয়ে। একইভাবে চ্যানেল ওয়ান কিংবা দিগন্ত টিভির বেকার সাংবাদিকদের মানবেতর জীবন যাপন নিয়েও ।

অবশ্য, সাংবাদিকদের একাংশের দাবি প্রতিবাদ করলে নাকি উনার গদিই থাকবেনা। সত্যি! আজব বাংলাদেশ, একটু গনেশ উল্টে দিলে সবই যেন সম্ভব এদেশে।

জনশ্রুতি রয়েছে যে, সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যাকান্ডে সক্রিয় থাকার একপর্যায়ে, রাতের আঁধারে কোন এক রহস্যজনক কারণে নীরবে-নিভৃতে সরে গেলেন সংগ্রামের নেতৃত্ব থেকে। পরবর্তীতে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা পদে পদাসীন হন তিনি। এরপরও আজো সাংবাদিক নাম লাগিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ইতোমধ্যে, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার প্রেস ইনস্টিটিউটের একদিকে চেয়ারম্যান পদে সরকারী দায়িত্ব পালন করলেও পত্রিকাটির সম্পাদক পদ আজো ছাড়েননি। এর ফলে সাংবাদিকতার সম্মানের জায়গাটুকুকেও তিনি বিতর্কিত করছেন না তো!

রাষ্ট্রীয় কোন পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানে পদাসীন হয়ে এসব মানুষরা সাংবাদিক, সম্পাদক পদবীতে কিভাবে পদাসীন থাকেন তা যে কোন সচেতন নাগরিকের জিজ্ঞাসা হতেই পারে।

এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর, শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী, গোলাম সারওয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক শ্যামল দত্ত। একজন নাগরিকবান্ধব সাংবাদিক হিসেবে মনে হয়েছে, বিষয়টি পুরোপুরিই একটি দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদাহরণ হয়ে থাকলো দেশবাসীর কাছে।

লেখক : সম্পাদক, দৈনিক দিশারী, নোয়াখালী।