গৌরব রক্ষার্থে দলবাজি ছাড়তে হবে

Tuesday, 01/09/2015 @ 11:33 pm

:: আকাশ মো: জসিম ::

kolom02এক সময় দৈনিক জনকণ্ঠের নোয়াখালীর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন কামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি ছিলেন বরাবরই একজন উচ্চ শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে নোয়াখালীর চরাঞ্চল নিয়ে নিজের নামেই খবর প্রকাশ করেছেন জনকণ্ঠে। প্রকাশিত খবরটির পুরোটাই ছিল জেলা সদরের সাংসদ ও সরকারবিরোধী। পরদিন জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা এডভোকেট এ.বি.এম জাকারিয়ার নের্তৃত্বে প্রকাশিত খবরের বিরুদ্ধে মিছিল হয়েছে জেলা শহরে। অবশ্য, সে সময়ের সাংসদ মো: শাহজাহান প্রকাশিত খবর নিয়ে কোন বাদ-প্রতিবাদ, হুমকি-ধমকি, উচ্চ-বাচ্য কিংবা আইনকানুনের আশ্রয় নেননি।

বরং, ৩দিন পরেই বিআরডিবির এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মো: শাহজাহান ও বিশেষ অতিথি সাংবাদিক কামাল উদ্দিন আহমেদ পাশাপাশি চেয়ারে বসছিলেন। আমার দেখায়, মো: শাহজাহান তাঁর বক্তৃতার প্রারম্ভেই কামাল কামাল উদ্দিন আহমেদকে সম্মান রেখে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন তা বরাবরই প্রশংসনীয় ও সম্মানজনক।

আজ এক্ষণে আমরা মনে করি, এটি একমাত্র কামাল উদ্দিন আহমেদের শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান, কর্মনিষ্ঠতা ও প্রতিভাধর সাংবাদিকতার গুণের কারণে অর্জিত হয়েছে। কামাল উদ্দিন আহমেদ আজ বেঁচে নেই। ফলে নোয়াখালীর সাহসী সাংবাদিকতাও আজ আর নেই।

সবাই সবাইকে বাঁচিয়ে রেখে-ঢেকেই পেশাদারিত্ব করছেন। বরং, সমাজ, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে সাংবাদিকদের কেউ দু’চার লাইন লিখতে গেলেও অন্যরা প্রতিপক্ষকে উসকে দেন। বলেন, ব্যাটা বেড়ে গেছে। একটু চেপে দেন। এর ফলে এখানে সাংবাদিকদের শত্রু বর্তমানে সাংবাদিকরাই।

প্রেসক্লাব নিয়েও বিভাজন। সাংবাদিকদের এ ফোরামও শক্তিশালী নয়। প্রেসক্লাবের সীমিত সদস্যরাও একে অপরের বিরুদ্ধে হীন স্বার্থে জড়িয়ে আছেন। যে বা যারাই প্রেসক্লাবের নেতা পরিচয় দেন তারা খামোখা পদবীকে নিজের পরিচয়ে ব্যবহার করে নিজের বিজ্ঞাপন হাতিয়ে লাভবান হলেও অন্যদের নিয়ে যেন ভাববার অবকাশ তাদের নেই। মূলত, সেসব অর্বাচীন এবং আমরা মনে করি যে যেখানে বসার যোগ্যতা রাখেননা তিনি সেখানে বসলে যাই হওয়ার তাই হয়ে চলছে।

শুধু তাই নয়, নোয়াখালীতে হালে সাংবাদিকতায় চলছে আরেক বেহায়াপনা। সাংবাদিক নামের কতেক ব্যক্তি বেরোখা হয়ে নামছেন বিজ্ঞাপন লাভের প্রতিযোগিতায়। সেখানেও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন দলবাজি। এখানে সাংবাদিক নামের কেউ কেউ কোন কোন অফিস-আদালতে বলছেন, আমি মন্ত্রীর লোক। আমার পত্রিকার মালিক সরকারের এটা-সেটা। একটু আগেই আমাকে ফোন করেছে। কেউ বলছেন, আমি আওয়ামী লীগের অমুক-তমুকের ভাই-শালা। আরও কত কি!

শুধুমাত্র নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে হন্য হয়ে কেউ কেউ কখনো তুুলেন, আমি প্রেসক্লাবের হোমরা- চোমরা। আমি যা বলি তাই করতে হবে। আমার কথায় সাংবাদিকরাও…। অন্যরাও যে যার মতো করে নিজের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত। এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে সাংবাদিকতার স্বগৌরব।

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক দিশারী, নোয়াখালী।