নোয়াখালী প্রেসক্লাব একটি অযাচিত যন্ত্রণা!

Wednesday, 05/08/2015 @ 7:57 pm

:: আকাশ মো. জসিম ::

newsmediaমনের দহন বড়ই যন্ত্রণাদায়ক। তাই কষ্ট নাকি পোষতে নেই। প্রকাশ করলে অন্তত মনটা হালকা হয়। রোগমুক্তির পরিধি বাড়ে। তাই অনেক দিন পর প্রেসবার্তাকে আবার বেছে নিলাম। বলছিলাম, নোয়াখালী প্রেসক্লাব নিয়ে। যেহেতু ২০০৯ সাল ধরে এ ক্লাবের বিভিন্ন ঘটনার নিজেদেরকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছি। অনেকের সাথে খামোখা (!) বাদ-প্রতিবাদে জড়িয়ে নিজেরা অযাচিত শত্রুও হয়েছি। আবার, কখনো-কখনো ক্লাব থেকে নিজেরা ক’জন উদ্বাস্তু বস্তুতে পরিণত হচ্ছি। হয়েছি।
এক সময় শ্রদ্ধেয় সভাপতি ফোন দিতেন। ক্লাবে ডাকতেন। ছিল ভিন্ন এক পারিবারিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সুহৃদ বন্ধন। এবং এটাও ধ্রুব সত্য যে, সে সময়ে তাঁর ডাকে এক সেকেন্ড দেরি না করে ছুটে যেতে আরো বেশি উৎফুল্ল হতাম। ভাল লাগতো। হালে উল্টে গেছে সব! চেষ্টা করেও তিনি আড়ালে। অন্তত, ক্লাবের কোন একটা সভা-সমাবেশ হলেও চোখাচোখি হতাম তাঁর। তাও, না।

যাই হোক, মানুষের মন বড় হলে আল্লাহপাকও তাকে বড় করেন। এটা সর্বজন স্বীকৃত সত্য। আবার, অনেক বড়রা নিজের আমিত্ব সহ্য করার ক্ষমতা না রাখাটাও দু:খজনক। হালে, সবই যেন ব্যতিক্রম এখানে।

নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সদস্য হয়েছি জনাব, আলমগীর ইউসুফের আহবায়ক কমিটির মধ্য দিয়ে। সে থেকে তাঁকে শ্রদ্ধার চোখে দেখছিলাম। এরপর, পেরিয়েছে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা। যখন-তখন। নোয়াখালী প্রেসক্লাবের রশি টানাটানিকালে একটি ক্ষণের জন্যও তাকে ছেড়ে যাইনি। অনেকে বাসা-বাড়িতে বসে বলতেন আমি ঢাকায়। অনেকে বলতেন, বাচ্চার হেনতেন। নানা অজুহাতে এড়িয়ে যেতেন আলমগীর ভাইয়ের ডাক।

এরপর, দিনে দিনে পাল্লা ভারি হতে লাগল। বাড়ল সদস্য সংখ্যা। এমনি আলমগীর ভাইও যেন আমাদের কাছে থেকেও দুরে সরে গেলেন। (যারা তাঁর জীবনের প্রথম সভাপতিত্ব পদবী মেনে নিতে পারেননি; তারাই তাঁর আশে-পাশে!) একপর্যায়ে, নির্বাচন এলো। তিনি আমার বসার ঠিকানায় এলেন। জড়িয়ে ধরলেন। আমিও ¯েœহপ্রবণ হলাম। তাঁেক কোনভাবে এড়িয়ে চলার দৃষ্টতা বা কপটতা কিংবা যতটুক শ্রদ্ধা করার তার জায়গায় কোথাও ব্যত্যয় ঘটেনি। এরপর নির্বাচন হলো। তিনি সভাপতি হলেন। ভোটের দিনও একাধিকবার হাই, হ্যালো। পরদিন থেকে আজ পর্যন্ত মুখোমুখি দেখা হয়নি।

যাই হোক, ঈদের দিন বিগত ঈদের মতো ভাবছিলাম তাঁর কোন ম্যাসেজ পাব। তাও না। পরে, নামাজ শেষে নিজ থেকেই ফোন দিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর হাওলা। আল্লাহর হাওলা। ৩ আগষ্ট প্রেসক্লাবের পাশের হোটেলে দুপুরে খাওয়া খেয়ে ক্লাবের সামনে দিয়ে আসার পথে তাঁর দেখা। এগিয়ে যাই। সালাম জানাতে। তিনি নিজেকে আড়াল করে নিলেন। চলে গেলেন ক্লাবের পেছনে। ভাই স্বরে ডেকেও তাঁকে পেছনে ফেরাতে পারিনি।

কেন, তাঁর এতো কষ্ট! কি তাঁর যন্ত্রণা। অথচ, নির্বাচনের আগে নিজেই কথা দিয়েছিলেন; বলছিলেন, এবার নির্বাচিত হওয়ার পর সর্বপ্রথম তিনি আমার আবেদিত রুমটি নিজেই ব্যবস্থা করে দেবেন। কৈ! সে নিয়ে তো কিছুই করলেননা। অযাচিত, অনভিপ্রেত ও অনাকাখিত কষ্টটা কার! দু:খিত, ভাই সব ভুলে যেতে চাই। আবারো প্রতিজ্ঞা করি; আমরা আগামীর একটি সম্ভবনাময়ী মিলনমেলায় ফিরে যাই।

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক দিশারী